“পিতার মৃত্যুবার্ষিকীতে সাংবাদিক লিটন হোসাইন জিহাদের আবেগঘন পোস্ট ভাইরাল”

প্রকাশ:

“পিতার মৃত্যুবার্ষিকীতে সাংবাদিক লিটন হোসাইন জিহাদের আবেগঘন পোস্ট ভাইরাল”


বি-বাড়িয়া জেলার স্বনামধন্য সাংবাদিক লেখক ও
পথিক টিভির সম্পাদক প্রকাশক লিটন হোসাইন জিহাদ তার ফেসবুক আইডিতে স্বীয় পিতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরহুম পিতার ছবি আপলোড করেন এবং অতীত স্মৃতি স্বরণ করে আবেগঘন পোস্ট করেন যা পিতৃভক্তির অকৃত্রিম ভালোবাসা শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  পিতৃবিয়োগে শোকাভিভূত হয়ে তিনি লেখেন,
আজ বাবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। বাবার মতোই জিকিরের ধ্বণি তুলে শেষ হলো আজকের দিন।
একটি বছর পেরিয়ে গেছে, অথচ মনে হয়, এই তো সেদিন—বাবার কণ্ঠে রাতভর জিকির শুনেছি, তাঁর মুখের দিকে তাকিয়েছি, তাঁর ছায়ার ভেতর নিজেকে নিরাপদ ভেবেছি। সময় চলে গেছে, ঋতু বদলেছে, পৃথিবী তার নিজস্ব নিয়মে ঘুরেছে; শুধু আমার ভেতরে একটি জায়গা থেমে আছে সেই দিনটিতেই—যেদিন বাবা চলে গেলেন।
বাবা চলে গেলে মানুষের মাথার ওপর থেকে  একটি অদৃশ্য আকাশ সরে যায়। পৃথিবী একই থাকে, ঘর একই থাকে, দরজা-জানালা, উঠান, গাছপালা সবই থাকে; শুধু ঘরের ভেতর থেকে একটি আশ্রয়ের ভাষা হারিয়ে যায়।
বাবাকে হারানোর মতো শূন্যতা পৃথিবীতে আর নেই।
আজ বুঝি,
বাবারা আসলে কখনো নিজেদের জন্য বাঁচেন না।
তাঁরা সন্তানের স্বপ্নের ভেতর নিজেদের জীবনকে বিলিয়ে দেন। তাঁদের হাতের কড়া, কপালের ঘাম, চোখের নিচের ক্লান্তি, অপ্রকাশিত দীর্ঘশ্বাস—সবকিছুতেই লেখা থাকে সন্তানের জন্য এক অদৃশ্য মহাকাব্য।
আজ বাবার কবরের দিকে তাকালে মনে হয়, মানুষ কত ক্ষুদ্র!
যে মানুষটি একদিন আমাকে পৃথিবীর বিশালতা চিনিয়েছিলেন, আজ তাঁকে ধারণ করে আছে কয়েক হাত মাটি। অথচ এই মাটিই আমাদের সবচেয়ে বড় দর্শন শেখায়—মানুষের শেষ ঠিকানা মাটি, কিন্তু মানুষের ভালোবাসার কোনো কবর হয় না।
তত্ত্ব বলে, দেহ ক্ষয় হয়, সময় মানুষকে স্মৃতি করে তোলে। কিন্তু আত্মিক অনুভব বলে, ভালোবাসা কোনো বস্তু নয় যে মৃত্যুর সঙ্গে বিলীন হয়ে যাবে। বাবা আজ দৃশ্যমান নন, কিন্তু তাঁর শেখানো শব্দগুলো আমার ভেতরে কথা বলে; তাঁর আদর্শ আমার সিদ্ধান্তে ফিরে আসে; তাঁর মুখ আমার স্মৃতির আয়নায় প্রতিদিন নতুন করে জন্ম নেয়।
হয়তো এটাই মানুষের দ্বিতীয় জীবন—
সন্তানের স্মৃতিতে, চরিত্রে, উচ্চারণে এবং প্রার্থনায় বেঁচে থাকা।
আধ্যাত্মিকতার গভীরে গেলে মৃত্যু আর কেবল বিচ্ছেদ নয়, বরং এক জগত থেকে আরেক জগতে যাত্রা। আমরা যারা এখানে রয়ে গেছি, তারা শুধু শোক করি; আর যিনি চলে গেছেন, তিনি চলে গেছেন সেই অনন্ত সত্যের দিকে, যেখানে একদিন আমাদেরও যেতে হবে।
তাই আজ অশ্রু আছে, আহাজারি আছে, বুকের ভেতর অসহনীয় হাহাকার আছে। তবু সেই হাহাকারের গভীরে একটি প্রার্থনাও আছে—
হে পরম করুণাময়,
আমার বাবার জীবনের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিন।
তাঁর কবরকে প্রশান্তির বাগান করে দিন।
তাঁর অন্ধকারকে নূরে পরিণত করুন।
তাঁর একাকিত্বের সঙ্গী হোন।
আর পরকালের অনন্ত প্রান্তরে তাঁকে শান্তি দিন।
বাবা,
আপনি নেই, অথচ আপনি আছেন।
আমার স্মৃতিতে,
আমার কথায়,
আমার স্বভাবে,
আমার প্রতিটি সাফল্যের আড়ালে,
আমার প্রতিটি দুর্বল মুহূর্তে,
আর সবচেয়ে বেশি—আমার নীরব প্রার্থনায়।
এক বছর হলো আপনি চলে গেছেন।
কিন্তু শোকের কোনো ক্যালেন্ডার নেই। মৃত্যুবার্ষিকী শুধু একটি তারিখ; বাবাকে হারানোর বেদনা প্রতিদিনের।
আজ তাই চোখের জল মুছে আপনাকে শুধু এটুকুই বলতে চাই—
বাবা, পৃথিবী আপনাকে আমার কাছ থেকে নিয়ে গেছে,
কিন্তু আমার হৃদয় থেকে নিতে পারেনি।
আপনি মাটির নিচে শুয়ে আছেন,
আর আমি আপনার স্মৃতির ভেতর দাঁড়িয়ে আছি।
আপনার জন্য আজ হাজারো আহাজারি নয়,
হাজারো দোয়া।
আল্লাহ আমার বাবাকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন। আমিন।
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে—বাবার প্রতি অশেষ ভালোবাসা, অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত দোয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়

আরও পড়ুন

১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পরিচালনায় থাকা হুজুরে বিরুদ্ধে

১২টি মাদ্রাসার এতিমদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১২ লাখ টাকা...

এনআইডি করে দেওয়ার কথা বলে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

যশোরের চৌগাছায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তারযশোর প্রতিনিধি:...

চাকরির প্রলোভনে নারী ও শিশু সন্তান নিখোঁজের অভিযোগ, সদর থানায় জিডি

চাকরির প্রলোভনে নারী ও শিশু সন্তান নিখোঁজের অভিযোগ, সদর...

আটক ছাত্রী সংস্থা নিয়ে সাবেক নেত্রী আয়েশা আক্তারের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি….

আটক ছাত্রী সংস্থা নিয়ে সাবেক নেত্রী আয়েশা আক্তারের চাঞ্চল্যকর...