১২টি মাদ্রাসার এতিমদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
জাজিরায় ১২টি মাদ্রাসার এতিমদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার | মোঃ সালমান রহমান
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা দারুল কোরআন ওমরিয়া মাদ্রাসার বড় হুজুর মোহাম্মদ লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে ১২টি মাদ্রাসার এতিমদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মাদ্রাসার নামে জাল বা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি ও বেসরকারি তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া ‘তাহফিজুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসা’ এবং ‘দারুস সুন্নাহ সাহারা বেগম মহিলা মাদ্রাসা’—এই দুটি প্রতিষ্ঠানে কোনো লিল্লাহ বোর্ডিং বা এতিমখানা না থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই বরাদ্দ অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে মোহাম্মদ লোকমান হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হুমকিও দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস দেন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
এদিকে উপজেলার সচেতন মহল ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের দাবি, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন, লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের অস্তিত্ব এবং আর্থিক ব্যয়ের নথিপত্র যাচাই করা হোক।
তাদের মতে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে অভিযুক্তকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা এবং তদন্তে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আদালতের রায় বা চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

