তাইম হত্যা মামলায় সাক্ষীর জবানবন্দি: ‘শাটার খুলবা নাকি গুলি করব’
ঢাকা, ১০ জুন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান ভূঁইয়া তাইম হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দি দিয়েছেন চা-বিস্কুটের দোকানদার মো. সালাউদ্দিন লিটন।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার ২২তম সাক্ষী হিসেবে তিনি সাক্ষ্য দেন। জবানবন্দিতে তিনি ২০২৪ সালের ২০ জুলাইয়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, পুলিশ তাঁর দোকানের শাটার খুলতে চাপ দেয় এবং হুমকি দিয়ে বলে, “শাটার খুলবা নাকি গুলি করব।”
সালাউদ্দিন লিটন জানান, সেদিন দুপুরে ইমাম হাসান তাইম, শাহরিয়ার ও রাহাত তাঁর দোকানে চা পান করতে আসেন। গুলির শব্দ শুনে তিনি দোকানের শাটার বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ এসে শাটার খুলতে বললে তিনি প্রথমে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে হুমকির মুখে শাটার খুলে দিলে চারজনই হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
তার ভাষ্যমতে, পুলিশ দোকানে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর করে এবং রাহাত, তাইম ও শাহরিয়ারকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। তাদের রাইফেলের বাঁট দিয়ে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর দোকান থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, সিগারেট ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
সাক্ষী আরও জানান, পরে দোকান থেকে বের হয়ে তিনি দেখেন তাইম মাটিতে পড়ে আছে এবং শাহরিয়ার তাকে ওঠানোর চেষ্টা করছে। তিনি নিজেও সাহায্য করতে এগিয়ে গেলে পুলিশ সদস্যরা বাধা দিয়ে বলেন, “আমরা ওকে হাসপাতালে পাঠাব। তোমরা যাবা নাকি গুলি করব?”
মামলায় মোট ১১ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জন পলাতক এবং দুইজন বর্তমানে কারাগারে আছেন। পলাতকদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনারসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন।
উল্লেখ্য, নিহত ইমাম হাসান ভূঁইয়া তাইম রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের এসআই মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী সেতুর কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। সে সময় তিনি নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজীনগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ বলে—শাটার খুলবা নাকি গুলি করব’
প্রকাশ:

