দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা হত্যাকাণ্ড: অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গলায় রশি ও বটি দিয়ে হত্যা

প্রকাশ:

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বাসায় স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার নিলিকে (নিলি) প্রথমে গলায় নাইলনের রশি পেঁচিয়ে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর রান্নাঘরের বটি দিয়ে গলাকেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যান রেস্তোরাঁ কর্মচারী মিলন মল্লিক (২৮)। এ ঘটনায় মিলনকে বাগেরহাট থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

র‌্যাব জানায়, নিহত ফাতেমার বাবার রেস্তোরাঁর কর্মচারী ছিলেন মিলন মল্লিক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফাতেমাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেন।

গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি টিনশেড বাসা থেকে ফাতেমার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সজিব মিয়া বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে র‌্যাব-৩।

র‌্যাব জানায়, মিলন সাত বছর আগে এক বছরের জন্য সজিব মিয়ার রেস্তোরাঁয় কাজ করে ছেড়ে দেন। দুই মাস আগে তিনি আবার সেখানে কাজে যোগ দেন। ঘটনার সময় ফাতেমার বাবা-মা ও ভাই জমি সংক্রান্ত কাজে হবিগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। রেস্তোরাঁর খাবার রান্না হতো সজিবের বাসায় এবং মিলনই বাসা থেকে খাবার আনা-নেওয়া করতেন।

ঘটনার দিন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন বাসায় প্রবেশ করেন এবং পাঁচ মিনিট পর ফাতেমার বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে বের হন। শোভা ব্যায়ামাগারে যান—এটি মিলন জানতেন। দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মিলন পুনরায় বাসায় প্রবেশ করেন এবং প্রায় ২০ মিনিট পর বেরিয়ে যান। এই সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে মিলন বাসায় গিয়ে ফাতেমাকে আবারও অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হয়ে ফাতেমা তাকে গালিগালাজ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মিলন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নাইলনের রশি নিয়ে বাসায় গিয়ে ফাতেমার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন। ফাতেমা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় রান্নাঘরের বটি দিয়ে গলাকেটে তাকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন মিলন। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় পরিহিত কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত বটি ও নাইলনের রশি উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়

আরও পড়ুন

লালমনিরহাটে জমি বিরোধে ভাতিজাকে পিটিয়ে হত্যা, চাচা আটক

লালমনিরহাটে জমি বিরোধে ভাতিজাকে পিটিয়ে হত্যা, চাচা আটকরিপোর্ট: আনিছুর...

হামে রাজধানীর এক হাসপাতালেই ২২ শিশুর মৃত্যু

রাজধানীতে হামের প্রকোপ: এক হাসপাতালেই ২২ শিশুর মৃত্যুনিজস্ব প্রতিবেদকপ্রকাশ:...

ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৫গাইবান্ধায় একই গ্রামে নিহতদের কবর খনন চলছে, দুপুরে দাফন

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন...

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী হামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হবে

ইরানে বালিকা বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলা: দ্রুত তদন্তের আহ্বান...