দুই বছরোপ্লক্ষে গাজায় সহিংসতায় সরব রাজনীতিক ও কূটনৈতিক ঘটনা—ইসরাইলিয় প্রধানমন্ত্রীর পরিস্থিতি নিবারণের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি আর হামাসের নিরুত্তাপ আস্থা-হীনতা, সেই সঙ্গে মিশরে থিতানো পরোক্ষ আলোচনা।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দুই বছর পূর্তির এক বিবৃতিতে বলেছেন—দেশের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাবে ইসরাইল। তিনি দাবি করেছেন, সব জিম্মিকে মুক্ত করা, হামাসের শাসন ভেঙে ফেলা এবং গাজাকে তেল–অবিবেকভিত্তিক কোনো হুমকি হতে দেয়া রোধ—এসব লক্ষ্য অত্যন্ত নিবিড়ভাবে অনুসরণ করা হবে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও একই সময়ে চলছে। মিশরে মধ্যস্থতাকারীদের তত্ত্বাবধানে ইসরাইলি ও হামাসের পরোক্ষ আলোচনা চলছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে; আলোচনায় যুক্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের প্রতিনিধিরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, জিম্মিদের মুক্তি এবং একটি চুক্তি ‘সন্নিকটে’ আসছে।
তবে কথার ছোঁয়ায় বিশ্বাস নেই—হামাসের শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী খালিল আল-হাইয়া (Khalil al-Hayya) বলেছেন, ইতিহাস প্রকাশ করেছে যে ইসরাইল কখনও প্রতিশ্রুতি পালন করে না; তারা ইসরাইলকে “এক মুহূর্তের জন্যও” বিশ্বাস করে না বলেও জানান। হামাস জিম্মিদের মুক্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে ‘বাস্তব গ্যারান্টি’ চেয়েছে।
একদিকে কূটনৈতিক কথাবার্তা, অন্যদিকে মাঠে অভিযান অব্যাহত—গাজার পূর্বাঞ্চলীয় শুজায়া ও দারাজে সেনাবাহিনীর বোমাবর্ষণ ও আক্রমণের খবর স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো প্রতিবেদন করেছে, যার ফলে উপত্যকাটিতে মানবিক সংকট ও বিনষ্ট অবকাঠামো আরও তীব্র হয়েছে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন—যদি নিরাপত্তা, প্রত্যাহার ও জিম্মি মুক্তির মতো বিষয়গুলোর ওপর বাস্তব গ্যারান্টি বা কার্যকর তত্ত্বাবধান না থাকে, তাহলে তাত্ক্ষণিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্থায়ী হবে কিনা সে প্রশ্ন উঁচু থাকবে। আলোচনার ফলাফল ও মাঠের কার্যকলাপ—দুইয়ের মধ্যে সঙ্গতি সৃষ্টি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। The Guardian+1
সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, আনাদোলু এজেন্সি।

