ইরানে বিক্ষোভের পেছনে কারা—যা জানাল তুরস্ক
কালবেলা প্রতিবেদক
আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬,
ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তুরস্ক। আঙ্কারার আশঙ্কা, এই অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে পারে। যদিও ইরান ও তুরস্ক দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী, তবুও ইরানের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষা তুরস্কের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে দেশটি।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, চলমান বিক্ষোভের কারণে ইরান সরকারের পতন ঘটবে—এমন আশঙ্কা তারা করছেন না। শনিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এবারের আন্দোলন ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ছোট পরিসরের।
তবে এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন কিছু বিশ্লেষক। তাদের মতে, ১৯৯৯ সালের পর ইরানে এত বড় পরিসরের বিক্ষোভ আর দেখা যায়নি। বিশেষ করে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবারের আন্দোলনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ফিদান মনে করেন, গত তিন দশকে ইরানের উচ্চাভিলাষী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নীতির ফল এখন দেশটিকে ভোগ করতে হচ্ছে। এসব নীতির কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে তরুণ সমাজের ওপর, যারা মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে চরম চাপে রয়েছে।
তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের বড় অংশই তরুণ, যারা সরকারের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। তার আশা, ইরান সরকার এই বার্তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
বিক্ষোভের পেছনের শক্তি নিয়েও মন্তব্য করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার অভিযোগ, ইসরায়েল ইরান সরকারকে অস্থিতিশীল করতে এই বিক্ষোভে প্রভাব বিস্তার করছে। ফিদানের দাবি, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে ইরানি জনগণকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে উৎসাহ দিচ্ছে।
ইরানে বিক্ষোভের পেছনে কারা—যা জানাল তুরস্ক
প্রকাশ:

