গবেষণা, আবাসন ও আর্থিক সংকটে ভুগলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে ৯ লাখ টাকায় ৯টি এসি বসানোর অনুমোদন দিয়েছে। নিয়ম ভঙ্গ করে দেওয়া এই অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ নিজেই।
প্রশাসন সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে রাজস্ব বাজেট থেকে এসি বসানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বিদেশে থাকায় তাঁর দায়িত্বে ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ। অধ্যাপক জাহাঙ্গীর দেশে ফেরেন ১ সেপ্টেম্বর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি মারাত্মক আর্থিক সংকটে আছে—গবেষণা বরাদ্দ কমে গেছে, ছাত্রাবাস ও শ্রেণিকক্ষ সংকট তীব্র, এমনকি পার্টটাইম শিক্ষকদের সম্মানিও সময়মতো দেওয়া যাচ্ছে না। তবু ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমের “বারবার ফোনকল ও চাপের” পর উপাচার্য বিষয়টি পুনরায় ফাইল এনে অনুমোদন দেন।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“আমি ছুটিতে থাকা অবস্থায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কোন নিয়মে হয়েছে জানি না। আমি থাকলে প্রশ্ন তুলতাম—এটা হওয়ার কথা না। সবকিছু জবাবদিহির মধ্যে থাকা উচিত।”
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন,
“আমি শুধু রুটিন দায়িত্ব হিসেবে ফাইল ফরওয়ার্ড করেছি, অনুমোদন দিইনি। উপাচার্য অনুমোদন দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সংকটের মধ্যে শিক্ষার উন্নয়ন হলে আমি উদার, কিন্তু ‘ফ্যান্সি’ কিছু দিতে পারি না। শিক্ষার্থীর মৌলিক চাহিদা যখন পূরণ হচ্ছে না, তখন এসি বসানো ঠিক নয়।”
সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী শুধুমাত্র জরুরি বা বিশেষ পণ্যের ক্ষেত্রেই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (DPM) অনুসরণ করা যায়। কিন্তু এসি কেনার ক্ষেত্রে সেই বিধিও লঙ্ঘন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের বিদ্যুৎ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন,
“ডাকসুর অনুরোধে প্রশাসন অনুমোদন দিয়েছে। ‘গ্রি’ কোম্পানির ৯টি এসি বসানো হচ্ছে। সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কাজ দ্রুত শেষ হবে।”
হিসাব পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি বাজেটে ডাকসুর জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। এর মধ্যে ভবনের সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনে ইতিমধ্যে খরচ হয়েছে ২৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। প্রকৌশল দপ্তরের তথ্যমতে, এসির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা, সাউন্ড সিস্টেমে ৭১ হাজার, পানির ফিল্টারে ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা।
এ ছাড়া অনুমোদনক্রমে ভবনের আসবাব ও পর্দায় ৪ লাখ, নারী-পুরুষের পৃথক শৌচাগারে সাড়ে ৩ লাখ, নতুন ওয়ার্ক স্টেশনে ২ লাখ ৭০ হাজার, কক্ষ সংস্কার ও রংয়ে ২ লাখ ৫২ হাজার, সাইনবোর্ড ও অন্যান্য আসবাবে ৮৩ হাজার টাকার কাজ চলছে—সবই DPM পদ্ধতিতে। ডাকসু ভবনে নামাজঘর নির্মাণের প্রস্তাবও প্রক্রিয়াধীন।
ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এইচ এম মোশারফ হোসেন বলেন,
“ডাকসু নেতারাই সরাসরি প্রশাসনের কাছে এসি চেয়েছেন। বরাদ্দ প্রশাসন দিয়েছে, আমার মাধ্যমে কিছু হয়নি।”
উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ বলেন,
“আমি খোঁজ নিচ্ছি, কীভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদি এসি বসানোর বিষয়ে কোনো প্রাধিকারের বিষয় থাকে, তা যাচাই করব।”
তবে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“ডাকসু ভবনে বসার উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না। শুধু দ্রুত কাজের পরিবেশ তৈরি করার কথা বলেছি, এসির বিষয়ে কিছু বলিনি।”
জিএস এস এম ফরহাদ বলেন,
“আমরা সংস্কারকাজ তদারকি করেছি, চাপ দিয়েছি। যদি এসি বিলাসিতা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় না দিক। ঘাটতি বাজেটের মধ্যেও আমরা নিজ উদ্যোগে সিসিটিভি বসিয়েছি। প্রকৌশলীরা নতুন কিছু কিনতে চাইলেও আমরা পুরোনো জিনিস সংস্কার করে ব্যবহার করছি।”
সূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন,

