সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের সাথে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এমতাবস্থায় দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জনাব এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা বিমান যাত্রার ৮টি টিকিট হাতে আসে। টিকিটগুলো যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রতিটি টিকিটই ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ইসলামী ব্যাংক কর্পোরেট গ্রাহক একাউন্ট হতে ইস্যু করা হয়েছে এবং যিনি এই টিকিটগুলো ইস্যু করেছেন তিনি ইসলামী ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাজনুজজামান।
ইউএস-বাংলা এয়ার লাইন্সের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান তাঁদের প্রতিটি কর্পোরেট গ্রাহকের নিজস্ব একাউন্ট রয়েছে যা ব্যবহার করে তাঁরা যে কাউকেই এধরণের টিকিট ইস্যু করতে পারেন। তবে ইসলামী ব্যাংক সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, বিমান ভ্রমণের কর্পোরেট একাউন্ট ব্যবহার করে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট নন এমন কোন ব্যক্তিকে এধরণের টিকিট ইস্যু করার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে জানতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য, জনাব এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের সাথে আমি যোগাযোগ করি, তিনি জানান এসকল টিকিট একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ইস্যু করা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংক এমন টিকিট ইস্যু করেছে কিনা এমনটা তাঁর জানা নেই।
উল্লেখ্য প্রতিটি টিকিটই ইতোমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ইউএস-বাংলার সাইটে প্রতিটি বুকিং রেফারেন্স যাচাই করে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে (লক্ষ্য করলে দেখবেন প্রতিটি বুকিং এ জনাব আযাদকে ভিভিআইপি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে)।
ইসলামি ব্যাংকের সাথে ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের কর্পোরেট চুক্তি রয়েছে যার আওতায় কেবল ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের দাপ্তরিক কাজে ভ্রমণের টিকিট কাটা স্বাভাবিক। ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের সাথে ইসলামি ব্যাংকের কর্পোরেট একাউন্ট ব্যবহার করে কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকে টিকিট করে দেয়ার যৌক্তিকতা বা সুযোগ নেই। তিনি যদি ব্যাংকটির পরিচালক বা কর্মকর্তা/কর্মচারী হতেন, তাহলে এটা স্বাভাবিক হতো। যেহেতু তিনি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা, তাই এই ঘটনাটি স্বাভাবিক নয়।
সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের সাথে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
প্রকাশ:

