গাজায় চলমান গণহত্যা ও কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির অভিযোগের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের মানবিক সহায়তা নিয়ে ইউরোপ থেকে যাত্রা করা ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ (সামুদ নৌবহর) জব্দ করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযানে মিশরের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতেই নৌবহরের সব জাহাজ একে একে আটক করা হয় এবং ৪৪৩ জন নাগরিক ও মানবাধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গাজামুখী প্রতিটি জাহাজে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়। এক ভিডিওতে দেখা যায়, ইউরোপীয় সংসদ সদস্য রিমা হাসান হামলার সময় নিজের মোবাইল ফোন সমুদ্রে ছুড়ে ফেলেন। যাত্রীদের সব মোবাইল ফোনও সমুদ্রে ফেলে দিতে বাধ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী। আটক ক্রুদের ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং কট্টরপন্থী কর্মকর্তারা তাদের উচ্চ নিরাপত্তায় কারাগারে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
হামাস এ ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি দখলদার বাহিনীর অপরাধের কালো রেকর্ডে আরেকটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। গাজার মানুষ দুই বছর ধরে গণহত্যা ও ক্ষুধার শিকার হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে সংগঠনটি।
এ ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ নেন এবং তার দেশ থেকে ইসরায়েলের পুরো কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন।
তুরস্কের আরসুজ বন্দর থেকে গাজার উদ্দেশ্যে নতুন করে কয়েকটি বেসামরিক জাহাজ রওনা দিয়েছে। নেদারল্যান্ডসে আটক ক্রুদের পরিবার-পরিজন বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। ইতালির রাজধানী রোমের রাজপথে হাজারো মানুষ ফিলিস্তিনি পতাকা উড়িয়ে মিছিল করেছেন। স্পেনের মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীও ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
বিশ্বের বিবেকবান মানুষ যখন ফিলিস্তিনিদের উপর এই অমানবিক হত্যাযজ্ঞ ও কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের পরিকল্পনার প্রতিবাদে মুখর, তখন পরাশক্তি দেশগুলোর নীরবতা গভীর প্রশ্ন তুলেছে।

