লক্ষ্মীপুরে একটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে অবৈধভাবে তৈরি করা ছয়টি ভোটের সিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জামায়াত ইসলামীর এক নেতার নির্দেশে সিলগুলো তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের পুরাতন আদালত সড়কের ‘মারইয়াম প্রিন্টার্স’ নামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৬ ঘরবিশিষ্ট ছয়টি ভোটের সিল উদ্ধার করা হয়। এ সময় জব্দ করা হয় একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোন।
ঘটনায় দোকানটির মালিক মো. সোহেল রানা (৩৪) এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শরীফ হোসেন ওরফে সৌরভকে (৩৪) আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হুমায়ুন কবির।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, গত ৩০ জানুয়ারি সৌরভ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভোটের সিল তৈরির অর্ডার দেন। সৌরভ নিজেও একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক। তবে ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
বুধবার দুপুরে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তিনি সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের খুরশিদ আলমের ছেলে। অপরদিকে সৌরভ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ বাঞ্ছানগর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ঘটনার পর সৌরভকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা জামায়াত। জেলা জামায়াতের আমির এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া জানান, ভোটারদের ‘ভোট দেওয়া শেখানোর’ অজুহাতে সিল তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এটি দায়িত্বহীন ও অনৈতিক কাজ।
সিল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আটক সোহেল রানাকে জামায়াতের কর্মী দাবি করেন। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রেজাউল করিম এ দাবি অস্বীকার করেন।


