জয়দেবপুরে রেলের জায়গায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে বিপাকে আরএনবি’র ইনচার্জ ইমরান
রাজু হোসেন গাজীপুর
গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন কলাপট্টি রেলগেইটে রেললাইনের উপর ও রেলের জায়গায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে বিপাকে পড়েছেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) ইনচার্জ ইমরান। গত রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিকালে আরএনবি’র ইনচার্জ ইমরানকে শাসালেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ মোল্লা ও তার অনুসারীরা।
জানা যায়, সম্প্রতি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, মেট্রোপলিটন পুলিশ ও রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে রেলক্রসিং ঘিরে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও হকারদের উচ্ছেদ করে রেলের জায়গায় গাছ রোপণ করা হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রেলের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে আরএনবি সূত্রে জানা যায়। এই উচ্ছেদের ফলে ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠে অবৈধ দখলদারদের চক্রটি।
আরএনবি জানায়, ঘটনার দিন আরএনবি’র ইনচার্জের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় রেলে অবৈধ দোকান ও দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযানে গেলে দখলদাররা আরএনবিকে উচ্ছেদ অভিযানে বাঁধার সৃষ্টি করে এবং রেলের জায়গায় রোপণ করা গাছগুলো তুলে ফেলে। এই ঘটনায় আরএনবি দুই জনকে আটক করে। একপর্যায়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। থানা পুলিশের সহযোগিতায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আরএনবি আটক হওয়া দুই ব্যক্তিকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু এই সময়ে নীরব ভূমিকায় রেলওয়ে পুলিশ ও স্টেশন মাস্টার ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে অবৈধ দখলদারদের পক্ষ নিয়ে যুবদল নেতা মাসুদ মোল্লা তার অনুসারীদের সাথে নিয়ে ভিড় (মব) সৃষ্টি করে রেলওয়ে জংশনের আরএনবি অফিসে বিভিন্নভাবে শাসানো ও হুমকী দিতে থাকে। একপর্যায়ে রেলওয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে এই নেতাসহ আরো ২ জন মুচলেকায় স্বাক্ষর করে আটক হওয়া দুই ব্যক্তিকে তাদের জিম্মায় নিয়ে যায়।
এবিষয়ে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জয়দেবপুর রেল স্টেশনের ইনচার্জ ইমরান জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই অভিযানে অবৈধ দখলদাররা সরকারী কাজে বাঁধা দিয়েছিল এবং গাছপালা তুলে জোর করে দোকান বসানোর চেষ্টা করার অপরাধে ০২ ব্যক্তিকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পুলিশ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি।
এবিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে এরপরে কি হয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
এসংক্রান্তে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ঢাকা অঞ্চলের কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, হুমকী ধামকি ঘটনাটি অবগত আছেন। এঘটনায় যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তিনি আরও জানান, রেলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশনায় এই জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হয়। আর এই গাছপালা রক্ষণাবেক্ষণসহ রেলের জায়গায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার দায়িত্বে ছিলেন ইমরান। তিনি কঠোরভাবে বলেন, কোনক্রমেই রেলের জায়গায় কোন দোকান বসিয়ে জায়গা অবৈধ দখল করার কোন সুযোগ দেওয়া হবে না।

