কুলিয়ারচরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের প্রতিবাদে ব্যক্তির পুরুষাঙ্গ কেটে দিলো মাদকসেবীরা
আবিদ হাসান, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের প্রতিবাদ করায় মুর্শিদ মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে আহত করেছে স্থানীয় একদল মাদকসেবী। এসময় তারা তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি কুলিয়ারচর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার দিকে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম তারাকান্দি গ্রামের দাগু শাহ মাজার এলাকার পাকা ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মুর্শিদ মিয়া পূর্ব তারাকান্দি গ্রামের মৃত নাদিরুজ্জামানের ছেলে।
এ ঘটনায় আহতের ভাই আসাদ মিয়া বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে কুলিয়ারচর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে পশ্চিম তারাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আঙ্গুর মিয়ার ছেলে বাসির মিয়া (৩০), হারিছ মিয়ার ছেলে ওয়াসিম (২৫), মৃত খুর্শিদ মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (৩০), মৃত কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে আরমান মিয়া (২৫), কেনু মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়া (২০) এবং মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে টুটুল মিয়া (১৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। মুর্শিদ মিয়া তাদের এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বুধবার সন্ধ্যায় দাগু শাহ মাজার এলাকায় যাওয়ার পথে পাকা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে তারা তাকে মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। এছাড়াও তার সঙ্গে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা।
মুর্শিদ মিয়ার চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কুলিয়ারচর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আদনান আখতার বলেন, “আহতের পুরুষাঙ্গের কাটা অংশে আটটি সেলাই করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হেলাল উদ্দিন পিপিএম বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলা (নং-০৩) রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে—যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন নৃশংস কাজ করার সাহস না পায়।

